Thursday, September 20, 2012

পাখির গ্রাম

পাখির গ্রাম

 

ছোট শেখহাটি এখন পাখির গ্রাম

- মনিরুল ইসলাম, যশোর | তারিখ: ২০-০৯-২০১২


‘সব পাখি ঘরে ফিরে’—পাখিরও ঘর আছে। সন্ধ্যার গোধূলিলগ্নে কিচিরমিচির ধ্বনি তুলে পাখির দল নিজের ঘরে ফিরতে থাকে। ছোট শেখহাটি গ্রামের মানুষ পরম যত্নে পাখির সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে। যশোর শহর থেকে মাইল তিনেক উত্তর-পূর্বে গাছগাছালির ছায়াঘেরা গ্রাম ছোট শেখহাটি। গ্রামের উঁচু গাছের মগডালের ফাঁকে ফাঁকে পাখির ঘর। কাঠ-খড়ের উপকরণে তৈরি এ রকম হাজার খানেক ঘরে কয়েক হাজার পাখি বসতি গেড়েছে। এ কারণে গ্রামটি এখন ‘পাখির গ্রাম’ নামে পরিচিতি পেতে শুরু করেছে। 
পরিবেশ অধিদপ্তর যশোর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সরদার শরিফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘পানকৌড়ি, নিশি বক আর সাদা বক মিলে তিন ধরনের হাজার পাঁচেক পাখি রয়েছে শেখহাটি গ্রামে। এর মধ্যে পানকৌড়ির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। নিশি বকের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, তারা দিনে বাসায় থাকে আর রাতে বিচরণ করে। এ জন্য সারাক্ষণই পাখির কলকাকলিতে মুখর থাকে গ্রামটি।’ গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম আসাদ, আবদুল ওয়াদুদ, আবদুর রশিদ ও আবু বকর সিদ্দিকের বাড়ির সবচেয়ে উঁচু গাছে পাখির আস্তানা। সম্প্রতি এক বিকেলে ওই গ্রামে গিয়ে দেখা গেল, লাল সূর্য পশ্চিমের আকাশে ডুবে যাচ্ছে। সন্ধ্যা নামতে আর বেশি দেরি নেই। কিচিরমিচির ধ্বনি তুলে দল বেঁধে পাখি ঘরে ফিরছে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে কলকাকলি তীব্র হতে থাকল। উঁচু গাছের মগডালের ফাঁক দিয়ে গলা বাড়িয়ে দিয়েছে লম্বা ঠোঁটের অসংখ্য পানকৌড়ি। পাখির নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন এই গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম আসাদসহ কয়েক ব্যক্তি। 
আসাদ এই প্রতিবেদককে বলেন, বছর পাঁচেক আগে এক জ্যৈষ্ঠ মাসে দুটি পানকৌড়ি সকালবেলায় এসে বসেছিল গাছের ডালে। পরদিন আরও কয়েকটি পাখি এল। এরপর কয়েক শ এসে গাছের ডালে বাসা বাঁধতে শুরু করে। শুরু হলো পাখির প্রজনন। বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ থেকে ভাদ্র-আশ্বিন মাস হচ্ছে পাখি প্রজননের সময়। মা পাখি সারা দিন বাসায় থাকে। আর পুরুষ পাখি খাদ্য অন্বেষণে দূরদূরান্তে চলে যায়। গাছতলায় নোনা পানির বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ থেকে ধারণা করা যায়, পাখিগুলো বহু দূরদূরান্তে চলে যায় খাবারের খোঁজে।
আসাদ বলেন, ‘পরম যত্নে আমরা পাখি আগলে রেখেছি। আমরা মনে করি, বাড়িতে পাখির আগমন আমাদের জন্য একটি সৌভাগ্যের বিষয়। পাখি সব জায়গা থাকে না। ওরা যেখানে নিরাপদ মনে করে, সেখানেই অবস্থান নেয়। যার জন্য এর পেছনে সৃষ্টিকর্তার ইশারা রয়েছে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’ গ্রামের আরেক পাখিপ্রেমী আবদুল ওয়াদুদ বলেন, ‘এ বছর কিছু দুষ্ট লোক আমাদের অগোচরে এলাকার কিশোরদের টাকার লোভ দেখিয়ে তাদের গাছে তুলে দিয়ে কিছু পাখি শিকার করে নিয়েছে। এ কারণে পাখি এখন অনেকটা আতঙ্কগ্রস্ত। গাছতলায় মানুষ দেখলেই পাখি উড়ে যাচ্ছে। ভয়ে অনেক পাখি অন্য এলাকায় চলেও গেছে। পাখির বাসাগুলো উঁচু গাছে হওয়ায় শিকারিরা গাছ বেয়ে মগডালে উঠতে পারে না। পাশের সুপারিগাছ বেয়ে শিশু-কিশোরদের তুলে দেয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে পাখির বাসাসংলগ্ন সব সুপারিগাছ কেটে ফেলা হয়েছে। তা ছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজন ঘুরে যাওয়ার পর পাখি শিকারিরা একটু নিবৃত হয়েছে। এখন আর শিকারিদের তেমন দেখা যায় না।’ পরিবেশ অধিদপ্তর যশোর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সরদার শরিফুল ইসলাম বলেন, পাখি শিকার দণ্ডনীয় অপরাধ। ‘পাখি ধরা নিষিদ্ধ’ লেখা চারটি সাইনবোর্ড ওই এলাকায় লাগানো হবে। এরপর কেউ পাখি ধরলে জেল-জরিমানার ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়া লোকজনকে সচেতন করার জন্য স্থানীয় মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে প্রচার চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে তিনি যানান।

 

Source: http://www.prothom-alo.com

 

অতিথি পাখির গ্রাম 

 

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ভাল্লুকগাছি চকপাড়া গ্রামটি এখন অতিথি পাখির গ্রাম হিসেবে মানুষের কাছে পরিচিতি পেয়েছে। ওই গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক আব্দুল হামিদের আমবাগানে বাসা করেছে হাজার হাজার অতিথি পাখি। অতিথি পাখিরা গ্রামটিকে নিজের করে বাসায় দিয়েছে ডিম। ডিম ফুটে বের হয়েছে ছোট ছোট বাচ্চা। গ্রামবাসী পাখি প্রেমে দেখাচ্ছেন উজ্জল দৃষ্টান্ত।

অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক আব্দুল হামিদ তার সাড়ে তিন বিঘা জমির আম বাগান থেকে মৌসুমে দেড় লাখ টাকার আম বিক্রি করতেন। কিন্তু দুই বছর থেকে তিনি এক টাকার আমও বিক্রি করতে পারেননি। কারণ তার বাগানে বসত গেড়েছে হাজার হাজার অতিথি পাখি। পাখিরা বাগানে বাসা করে দিয়েছে ডিম। ফুটেছে ছোট ছোট বাচ্চা। পাখিদের শত অত্যাচার সহ্য করেও তিনি অবিচল রয়েছেন তাদের নিরাপত্তা প্রদানে।

শিক্ষক আব্দুল হামিদের পাখি প্রেমে আকৃষ্ট হয়ে এখন পুরো গ্রাম একাট্টা হয়েছে পাখি রক্ষায়। পাখিরাও আপন বাড়ি ভেবে সেখানে করেছে বাসা। দিয়েছে ডিম। ডিম থেকে প্রতিদিনই ফুটছে বাচ্চা। পাখির কলতানে এখন মুখর পুঠিয়া উপজেলার ভাল্লুকগাছি চকপাড়া। শিকারিদের হাত থেকে গ্রামের নারী-পুরুষ সবাই মিলে রক্ষা করছেন পাখিগুলোকে।

প্রতিদিনই দুর-দুরান্ত থেকে মানুষ আসছেন পাখি দেখতে। এতে গ্রামের পরিচিতি যেমন বাড়ছে, তেমনি সুনামও ছড়িয়ে পড়ছে সর্বত্র। সৃষ্টি হয়েছে সুন্দর একটি পরিবেশ। সব ধরণের বিনোদন সুবিধা বঞ্চিত গ্রামবাসীর প্রধান বিনোদনে পরিণত হয়েছে এই অতিথি পাখি।

গ্রামবাসী এই অতিথি পাখিদের নাম জানেন না। তবে উপজেলা পশু সম্পদ অফিসের কর্মকর্তারা পরিদর্শন শেষে গ্রামবাসীকে জানিয়েছেন এগুলো সাইব্রেরিয়ান হাঁস।

আব্দুল হামিদ ক্ষতি শিকার করে নিজের বাগানে অতিথি পাখির আশ্রয় দিয়ে পাখি প্রেমের উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেও সরকারিভাবে কোন ক্ষতিপূরণ তার কপালে জুটেনি।

সরকারিভাবে তার বাগানকে পাখির অভয়াশ্রম ঘোষণা দিয়ে একটি সাইনবোর্ড ঝুলানো ছাড়া আর কোন পদক্ষেপই নেওয়া হয়নি। তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলছেন তাকে সরকারিভাকে কিছু সহায়তা প্রদানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

শুধু আশ্বাস নয়, সরকারিভাবে কিছু আর্থিক সহায়তাই হতে পারে শিক্ষক আব্দুল হামিদ এবং এই পাখিগুলোর নিরাপদে বেঁচে থাকার অবলম্বন।  

Source: http://dhakareport24.com



পাখির গ্রাম ভাটিনাযতই ভেতরে ঢুকছি ততই পাখির কিচিরমিচির শব্দ চারপাশ থেকে আমাদের ঘিরে ধরছে। আমরা থমকে দাঁড়াই। বাঁশঝাড়ের ডালে ডালে শত শত পাখি। চড়ুই, শালিক, টিয়া, বক, মাছরাঙা, ঘুঘুসহ নানা রকমের পাখি। সবাই বুঝি আনন্দে চেঁচাচ্ছে

- সালেক খোকন বন্ধু শামীমের বাসায় বেড়াতে এসেছি দিনাজপুরে। বিখ্যাত কান্তজী মন্দির, রামসাগর আর নয়নাভিরাম শালবন দেখে ভালোই কাটছে দিনগুলো। কাটারীভোগ চালের ভাতের সঙ্গে রুস্তম হোটেলের গরু ভুনা, মুন্সির হোটেলের খাসি আর ভাবির হাতের টাঁকিভর্তার স্বাদ নিয়েছি বারকয়েক।
শহরের একটু বাইরে বটতলীতে মালেকের বিখ্যাত চায়ের দোকান। মালাই দিয়ে চা খেতে খেতে ভাটিনা গ্রামের কথা শুনি। সেখানে নাকি নানা জাতের অনেক পাখি। ভাটিনা না দেখে চলে যেতে মন চাইল না। তাই দুপুরের পর শামীমের মোটরসাইকেলে রওনা হই আমরা। শহর থেকে দূরত্ব প্রায় ৮ কিলোমিটার। চিরিরবন্দরের রাস্তা ধরে কিছুদূর গিয়ে একটি বেইলি ব্রিজ পেলাম। ব্রিজে উঠে শামীম জানাল এটি গর্ভেশ্বরী নদী। এখন শুকিয়ে গেলেও একসময় নাকি এর গর্ভ স্পর্শ করা অসম্ভব ছিল। ব্রিজ পেরিয়ে মাস্তান বাজার। দেশের সবচেয়ে বড় টমেটোর বাজার এটি। বাজারের বাঁ দিক দিয়ে ইট বিছানো পথ গেছে ভাটিনায়। দুপাশে লিচু আর আমের বাগান। ঝাঁকড়া চুলের লিচুগাছগুলো দেখতে বেশ। গর্ভেশ্বরী পারের শ্মশানে পেঁৗছাই। কালীপূজার মেলা বসেছে। ভেসে আসে, 'ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে, রইব না আর বেশি দিন তোদের মাঝারে'।
গানে ভেসে দুই রাস্তার মাথায় এসে দাঁড়াই। বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ধানক্ষেত। ভারী বাতাস সবুজ জমিনে ঢেউ তুলে ছুটে যাচ্ছে। এক বৃদ্ধ কৃষককে জিজ্ঞেস করে মেঠোপথ ধরে এগোতে গিয়ে দেখি সাইনবোর্ডে লেখা 'পাখি সংরক্ষিত এলাকা, পাখি মারা নিষেধ'। বুঝতে পারি এসে গেছি ভাটিনা। বড় একটি পুকুর পেরিয়ে এগিয়ে যাই। গ্রামের মধ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অনেক বাঁশঝাড়। যতই ভেতরে ঢুকছি ততই পাখির কিচিরমিচির শব্দ চারপাশ থেকে আমাদের ঘিরে ধরছে। আমরা থমকে দাঁড়াই। বাঁশঝাড়ের ডালে ডালে শত শত পাখি। চড়ুই, শালিক, টিয়া, বক, মাছরাঙা, ঘুঘুসহ নানা রকমের পাখি। সবাই বুঝি আনন্দে চেঁচাচ্ছে। পাখিদের মহামিলন উৎসব যেন। আরেকটি বাঁশঝাড়ে সমবেত হয়েছে সহস্র পানকৌড়ি। একটি পানকৌড়িকে ছুটে পালাতে দেখে তাকিয়ে থাকি। দেখি একটি গোশালিক তাকে ঠোকর মারতে তাড়া করছে। পাখিদের আনন্দে আমরা আত্দহারা হয়ে যাই।
একটি আমবাগানে দেখলাম বাদামি রঙের বক আকৃতির অনেক পাখি। চোখ বুজে আয়েশ করে ঘুমাচ্ছে। স্থানীয় একজন জানাল, এরা রাতচরা। মুচকি হেসে ভাবি, হয়তো এ কারণেই দিনে ঘুমাচ্ছে। ভাটিনার শত শত একর জমিতে টমেটো আবাদ হয়। একটি টমেটো বাগানে গিয়ে দেখি পাখিদের বসার জন্য বাঁশের ছোট ছোট কঞ্চি গেড়ে দেওয়া হয়েছে। পোকার হাত থেকে রেহাই পেতে এ ব্যবস্থা। ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি এসে খেয়ে যাচ্ছে সব পোকা। এভাবে কীটনাশক থেকে পরিবেশ বাঁচে, বাঁচে খরচও।
পাখি ওড়াতে স্থানীয় যুবক আকরামুল বিশেষ কায়দায় শব্দ করতেই ঘটে অবাক করা ঘটনা। হাজার হাজার পাখি গাছ থেকে বেরিয়ে এসে আকাশের দিকে ছুটতে থাকে। অল্পক্ষণে আকাশ ছেয়ে যায় পাখিতে। ভাটিনার বাসিন্দারা এ রকম মন জুড়ানো দৃশ্য দেখে প্রতিদিন। শত শত পানকৌড়ি, সাদাবক, কুনিবক, গুটকল, রাতচরা, ঘুঘু, শালিক, টিয়া আর ময়নার অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে এ গ্রাম। এমনটি হয়েছে অনেক দিনের চেষ্টায়। কৃষক নূরু মিয়া জানালেন ১২ বছর আগের কথা। গোটা গ্রামেই ছিল পাখিদের আনাগোনা। ফাঁদ পেতে পাখি ধরা ছিল গ্রামবাসীর দৈনন্দিন ব্যাপার। বিত্তবানরা এয়ারগান চালাতেন দিনভর। দিনশেষে মোটরসাইকেলে মৃত পাখির ঝাঁক ঝুলিয়ে বাড়ি ফিরত শিকারিরা।
আলোর ভুবন সমিতি প্রথম উদ্যোগ নেয় পাখির অভয়ারণ্য তৈরির। তাদের পাশে এসে দাঁড়ায় স্থানীয় প্রভাবশালী হাশেম তালুকদার মেম্বার। পাখি মারার দীর্ঘদিনের অভ্যাস ছেড়ে নিজের এয়ারগানটি ছুড়ে ফেলে দেন। শপথ নেন পাখি না মারার। সেই শুরু। গোটা গ্রাম মেতে ওঠে পাখিপ্রেমে। পাখিদের সঙ্গে গ্রামবাসীর গড়ে উঠেছে আত্দার সম্পর্ক। ঝড়-বৃষ্টিতে ভাটিনাবাসী বেরিয়ে পড়ে কুলা হাতে। খুঁজে খুঁজে বের করে আহত পাখিগুলোকে। সাধ্যমতো চিকিৎসা দিয়ে বাসায় (বাঁশঝাড়ে) পেঁৗছে দিয়ে আসে।
সূর্য ডুবছে ভাটিনায়।
দূরে গিয়েছিল যারা তারা ফিরে আসছে। পুকুরে ঝাঁপিয়ে দিনশেষের ক্লান্তি দূর করছে কেউ কেউ। পাখিদের এসব দৃশ্য দেখলে কে আর ফিরতে চায়! আজও ভাটিনার কথা মনে হলে উদাস হয়ে যাই।
 Source: http://www.kalerkantho.com

পাখির গ্রাম বাঞ্ছারামপুরের দশানী

আদিত্যফয়সল .বাঞ্ছারামপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার পশ্চিমে দশানী গ্রামটি।আইয়ূবপুর ইউপির শেষপ্রান্ত দশানী গ্রামটির জনসংখ্যা নিত্যান্তই কম,মাত্র ৩হাজার প্রায়।মানুষ কম হলে কি হবে,গ্রামটির রয়েছে আলাদা স্বতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্য।প্রায় চারপাশ মেঘনা নদীর শাখা প্রশাখা গ্রামটিকে ঘীরে রাখা দশানী গ্রামের রয়েছে বিলুপ্ত প্রায় বহু সংখ্যক পাখির আনাগোনা।পাখিদের নিরাপদ আবাস ভূমি হিসেবে এটি পাখি প্রেমীদের মন কেড়েছে।কৃষিনিভর দশানী গ্রামের মানুষ হাজারো বৃক্ষরাজীতে পাখির বাসা ও পাখির কুঠরী যেন একে অন্যের সাথে দারুন বন্ধুত্ব।ফলে,গ্রামের শিশু থেকে বয়োবৃদ্ধ পাখিদের বিরক্ত বা শিকার করেন না।পাখি শিকারী ঢুকা এই গ্রামে একেবারেই বারণ।দোয়েল,কোয়েল,ময়না,শ্যামা,কয়েক প্রকারের বক,মাছরাঙ্গা,ডাউক,ছোট বড় ৫ প্রকারের চড়ুই,টিয়া,কাঠঠোকরী,কবুতর,ফিঙ্গে ইত্যাদিসহ প্রায় শতাধিক প্রজাতির আনুমানিক ৫ হাজার পাখিকে রক্ষার জন্য বষা মৌসুমে যথেষ্ঠ খাদ্য ও নিরাপত্তার বিষয়টি পদক্ষেপ নেয়ার জন্য দাবী জানিয়েছেন দশানীর গ্রামবাসী।সেটি আশপাশের এলাকা নরসিংদী,কুমিল্লার হোমনা,নবীনগর থেকে নিয়মিত পাখপাখালী দেখতে বিপুল সংখ্যক দশণাথী এলেও পাখিদের বিরক্ত করা থেকে বিরত থাকেন।শীতকাল এলেও তো কথাই নেই।এই গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা বিশিষ্ট সাংবাদিক মনিরুজ্জামান পামেন ও পৈত্রিক আবাসস্থল তফাজ্জ্বল হোসেনের ছেলে বিশিষ্ট ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন একসময় এই পাখিদের পেছনে দৌড়ে দৌড়ে ছড়া লিখতে উৎসাহী হ’ন বলে জানা গেছে।কিচির মিচির চড়ুই ডাকে ঐ দূরের গাছটায়,দিদি যাবে স্কুলে ঠিক সাড়ে দশটায়-এর লেখক স্বনামধন্য ছড়াকার রিটন তার এক লেখনীতে উল্লেখ করেছেন,বাংলাদেশের সবস্থানে যদি এই দশানী গ্রামের মানুষের মতো পাখিপ্রেমী,নিজ স্বজনের মতো ভালোবাসতো,তা হলে দেশে পাখির আকাল পড়তো না।গ্রামের মানুষ বাঞ্ছারামপুরের এই পাখিদের নিয়ে গৌরববোধ করেন।তারা পরিচিতি হন,পাখির গ্রাম দশানী হিসেবে”।দেখা গেছে,গ্রামটিতে পাখি ও মানুষ সহবাসসহ এক অন্যের প্রতি মমত্ববোধ করেন।ফলে পাখিদের কষ্ট করে বাসাগুলো যেন কেউ ক্ষতি করতে না পারে,সে জন্য সজাগ দৃষ্টি রাখেন স্থানীয়রা।স্থানীয় কৃষাণী মধূবালা জানান,“আমগো ঘুম ভাঙ্গে পাখ-পাঁখালীদের গানের সুরে সুরে।আবার সন্ধ্যার বাত্তি জ্বালাই পাখিগো বাড়িতে আইয়্যা যহন কিচির মিচির কইরা যহন ডাহে„।৯০ বছর বয়সী বৃদ্ধ তোরাব আলী মিয়া জানান,আমরা ছুডু বেলা থাইক্ক্যাই দেখতাছি বাশঝাড় ও গাছের মইধ্যে পাখির বহু বাসা।আমার বাবাজানেও আমারে কইতো পাখিগুলারে কোনসম কষকষ্ট দিস্ না।এইডা আমাগো উপর আল্লাহর নেয়ামত।সব জায়গায় পাখি বাসা বান্ধে না।পাশ্ববতী গ্রামের বাসিন্ধা বিশিষ্ট কলাম লেখক,জনপ্রতিনিধি মো.সিরাজুল ইসলাম এই প্রসঙ্গে জানান,“বত`মান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যা.তাজুল ইসলাম,তফাজ্ব্বল হোসেন [ছড়াকার লুৎফর রহমানের পিতা],বসুন্ধরার মালিক আহমেদ আকবর সোবহান শাহআলমের চাচা কৃষিতে জাতীয় পুরষ্কারপ্রাপ্ত স্বনামধন্য কৃষিবিদ ড.হালিমসহ আমরা অনেকে বাল্যকালে দলবেধে এই গ্রামে কেবল পাখিদের কিচির মিচির ও মনোমুগ্ধকর গান,নানা রঙ্গের পাখি নিয়ম করে আসতাম।মন্ত্রীমহোদয়,এখনো পাখির গ্রাম দশানীর খোজ খবর নিয়মিত রাখেন।তিনি গ্রামটি যেন পাখিবান্ধব ও পাখিদের জন্য নিরাপত্তাসহ সুরক্ষিত হয়ে উঠে তার জন্য স্থায়ী ব্যবস্থা নেবেন বলে জেনেছি।“খোজ নিয়ে জানা গেছে,পাখিদের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে একমাত্র খাদ্য ও বাসা বাধার বৃক্ষরাজী কমে যাওয়ার কারনে।বিশেষ করে বরষা মৌসুমে খাদ্যের ঘাটতি থাকে।জানা গেছে গত বছর জনৈক ঠিকাদার তার পানিতে নষ্ট হয়ে যাওয়া গম ও চাল এই গ্রামের পাখিদের খাবার হিসেবে নিজ খরচে নিয়ে আসেন ও তা যথারীতি পাখিদের জন্য বিলিও করেন।গতকাল শুক্রবার যখন ফিরে আসি,পাখিরা গানের সুরে জনপ্রতিনিধি ও পাঠকদের উদ্ধেশে যেন বলতে চাইছে, “আমাদের রক্ষা করতে আর গাছ কেটো না,আমাদের বংশবৃদ্ধি করতে দাও।আমরা খাদ্যের নিরাপত্তাসহ বাসস্থান চাই”। 

Source: http://www.newsbrahmanbaria.com

 অতিথি পাখির গ্রাম কালুহাটিতে হাজার মানুষের ঢল